স্কুল বুক সোসাইটি ও পাঠ্যপুস্তক

স্কুল বুক সোসাইটি সম্পর্কে গোপাল হালদার তাঁর ‘বাঙালা সাহিত্যের রূপ-রেখা’য় যা বলেছেন

স্কুল বুক সোসাইটি ও পাঠ্যপুস্তক

স্কুল কলেজে পাঠ্যপুস্তকরূপে সাহিত্য-গ্রন্থও পঠিত হয়, কিন্তু পাঠ্যপুস্তক সাধারণতঃ সাহিত্যের মানদণ্ডে সাহিত্য বলে গ্রাহ্য হয় না। তবে বিষয়-মাহাত্ম্য ও লিপিকুশলতার কোনো কোনাে পাঠ্য-পুস্তক সে গৌরব নিশ্চয়ই অর্জন করতে পারে। বাঙলা ভাষায় গদ্য-সাহিত্য যতক্ষণ উদ্ভূত হয়নি ততক্ষণ পর্যন্ত যে কোনাে গদ্য রচনা গদ্য-সাহিত্যের সেই জন্মক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে তাকেই আমরা গ্রহণ করেছি। বলাই বাহুল্য, এসব প্রচার-পুস্তিকা, পাঠ্যপুস্তক, অনেক সময়ে মােটেই সাহিত্য-পদবাচ্য নয়—শুধু গদ্যের নমুনা।

কিন্তু এই দ্বিতীয় পর্বে এসে আমরা প্রথম স্বতন্ত্র গদ্য-সাহিত্য রচনায়ও প্রয়াস দেখতে পাই। গদ্যের রূপ এখনও সুস্থির হয়নি বলেই এখনও প্রচার-পুস্তিকা, পাঠ্যপুস্তক প্রভৃতিকে একেবারে আলােচনা থেকে বাদ দেওয়া যায় না—সাময়িক পত্ৰকে তাে বিংশ শতকেও সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু গদ্য রচনার ইতিহাসে এখন (ইং ১৮১৫-এর পর) থেকে পাঠ্যপুস্তক বা প্রচারমূলক পুস্তক পুস্তিকাকে আর নির্বিচারে আলোচ্য বিষয় করার প্রয়ােজন কমে এসেছে।



এই কারণেই কলিকাতা স্কুল বুক সােসাইটির প্রকাশিত সকল পুস্তকের বিশদ আলােচনা করা নিপ্রয়ােজন। কিন্তু সেদিনে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে সােসাইটির এই দান অতি প্রয়ােজনীয় ছিল।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্য বই সাধারণ দেশীয় ছাত্রদের জন্য লেখা নয়, তার মূল্যও ছিল অত্যধিক। দেশীয় ছাত্রদের অভাব মেটাবার উদ্দেশ্যেই খ্রী: ১৮১৭ অব্দে ‘কলকাতা স্কুল বুক সোসাইটি’ স্থাপিত হয়। ৪ জন বাঙালী হিন্দু, ৪ জন মুসলমান মৌলবী ও বাকি ১৬ জন ইউরােপীয় নিয়ে পরিচালক সমিতি গঠিত হয়।

সকলের শীর্ষভাগে ছিলেন উইলিয়ম কেরি, আর বাঙালীদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন তারিণীচরণ মিত্র, রাজা রাধাকান্ত দেব, রামকমল সেন প্রভৃতি। সাহেবদের মধ্যে ডেভিড, হেয়ার অন্যতম সদস্য ছিলেন। সংস্কৃত, ইংরেজি ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় (বাঙলা, হিন্দুস্থানী) সাহিত্য, গণিত, ভূগোল, ইতিহাস প্রভৃতি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বিনামূল্য তা বিতরণ ছিল সমিতির কাজ।


বাঙলা দেশের নবােন্মাষিত জিজ্ঞাসা যে তাঁরা পরিতৃপ্ত করেন ও পরিপুষ্ট করেন। এটাই প্রধান কথা—সাহিত্যের ক্ষেত্রে তাঁদের কোনাে সাক্ষাৎ দান থাক বা না থাক। এজন্য প্রথম উল্লেখযােগ্য—‘নীতিকথা’ (খ্রীঃ ১৮১৮)। সামান্য জিনিস হলেও তিনজন মহারথী এর লেখক— তারিণীচরণ মিত্র, রাজা রাধাকান্ত দেব ও রামকমল সেন। রাজা রাধাকান্ত দেবের (খ্রীঃ ১৭৮৪-খ্রী: ১৮৬৭) কীর্তিও (দ্র: যােগেশচন্দ্র বাগল — উঃ শঃ বাঙলা) এ প্রসঙ্গেই উল্লেখ করা যেতে পারে।

বাঙালা সাহিত্যের রূপ-রেখা, দ্বিতীয় খন্ডঃ নবযুগ – গোপাল হালদার (পৃষ্ঠা: ১১১-১১২)

বাংলা পিডিএফ বই পেতে এখানে ক্লিক করুন
বাংলা সাহিত্য বিষয়ক পোস্টগুলো দেখতে এখানে ক্লিক করুন

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *