ভারতে প্রথম সাঁওতালি ভাষায় অনুবাদ শ্রী রামকৃষ্ণের ‘অমৃত কথা’ বিশ্বভারতী ছাত্রের

‘গীতা পাড়হাও খন ফুটবল এনেচ দ সারেস গেয়া’। যার বাংলায় অর্থ ‘গীতা পড়ার থেকে ফুটবল খেলা শ্রেয়’। এমন সব ‘অমৃত কথা’ সাঁওতালি ভাষায় অনুবাদ পড়লে যে জীবন শৈলী রচনা হয় তা যে বর্তমান সমাজকে আরও দৃঢ় করে। এই ভাবনা থেকেই ছাত্রকে অনুরোধ। ছাত্র সেই মত সাঁওতালি ভাষায় অনুবাদ করলেন

‘জেওয়েদ জাগার’। পুরো নাম জেওয়াদ জাগারঃ শ্রী রামকৃষ্ণ ঠাকুর, সারদামৌই আর স্বামী বিবেকানন্দয়াঃ কাথা রেয়াঃ। বাকিটা আজ ইতিহাস। কারন ভারতবর্ষে এই প্রচেষ্টা প্রথম। ছাত্র শুভময় রায়ের কথায়, অধ্যাপিকা ডঃ সবুজ কলি সেনের উদ্যোগে, উৎসাহে নিরলস নিরন্তর প্রচেষ্টায় ‘রামকৃষ্ণ মিশন ইন্সটিটিউট অফ কালচার (গোলপার্ক, কলকাতা) এর বই ‘অমৃত কথা’ যা সাঁওতালি ভাষায় ‘জেওয়েদ জাগার’ রামকৃষ্ণ সাহিত্য পরিমণ্ডলে প্রথম সাঁওতালি ভাষায় বাংলা হরফে অনুবাদ কর্ম। বাংলা থেকে ভাবানুবাদ করেছেন তিনি। যতগুলো বাণী সবগুলোই আছে। কাজ শুরু হয় ২০১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। আর ওই বৎসরেই নভেম্বরে সমাপ্ত হয় এই শুভ কাজ। অনুবাদক শুভময় রায়ের বাড়ি কোচবিহার। পড়াশোনা সূত্রে ২০১২ সাল থেকে বিশ্বভারতীতেই আছেন তিনি। ২০১৫ সালে ভাষাভবন থেকে সাঁওতালি ভাষায় স্নাতক হন তিনি। পাশাপাশি, ২০১৬-১৮ সালে বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতনের বিনয় ভবন থেকে সাঁওতালি ভাষায় বিএড ও করেন। আর সেই সূত্রে তাঁর যোগাযোগ হয় বিনয় ভবনের তদানীন্তন অধ্যক্ষা সবুজ কলি সেনের সাথে। বর্তমানে বিশ্বভারতীর বিনয়ভবন থেকে এডুকেশনের ছাত্র হিসেবে স্নাতোকত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন তিনি। শনিবার বুদ্ধ পূর্ণিমায় আকালীপুর শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা সেবাশ্রমে আসেন সবুজ কলি সেন ও শুভময় রায়। আশ্রমের স্বামী বাগিসানন্দ পুরি জানান, বিশ্বভারতীর অধ্যাপিকা সবুজ কলি সেনের উদ্যোগে এখানে ‘অমৃত কথা’র বইয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্দবোধন হয় এই আশ্রমে। সেদিন ভাষণ পর্বে যোগ দেন বিশ্বভারতীর দর্শন বিভাগের অধ্যাপিকা তথা বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজ কলি সেন। জানা গেছে, সবুজ কলি সেন বাঁকুড়া রামকৃষ্ণ থেকে বিভিন্ন জেলায় এই বই নিয়ে যান। শান্তিনিকেতনে ‘বীণাপাণি’ নামে সাঁওতালি মেয়েদের আশ্রমে কর্মকর্তাদের এই বই দিয়েছেন। ঝাড়গ্রাম থেকে অন্যান্য জায়গায় একইভাবে দেওয়া হবে, বলে জানা গেছে। অনুবাদক শুভময় রায় জানান, খুব সহজ সরল ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। সাঁওতালি ভাষার ক্ষেত্রে সামান্য কিছু তারতম্য দেখা যায়। তাই মান্যচলিতের কথা মাথায় রেখেই কথ্য ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।

অধ্যাপিকা সবুজ কলি সেন বলেন, ‘অমৃত কথা’র অনুবাদের প্রয়োজন ছিল। আমাদের ছাত্র শুভময় রায় খুব যত্নের সাথে সাঁওতালি ভাষায় অনুবাদ করেছে।আদিবাসী এলাকায় এই বইয়ের চাহিদা বেড়েছে। এই বইয়ে সুস্থ জীবন যাপনের উপায় লেখা আছে। সেগুলো মেনে চললে সমাজটা আরও সুন্দর হবে। আমার অনেক দিন ধরেই মনে হত শ্রী রামকৃষ্ণের অমৃত কথা যদি সাঁওতালদের কাছে তুলে ধরা যায়। এখন তো সবাই সাঁওতালরা লেখাপড়া শিখছে। এই অমৃত কথা মানুষের জীবন শৈলীর ক্ষেত্রে অনবদ্য হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে সারা ভারতবর্ষে প্রথম বিশ্বভারতীর বিনয় ভবনে বি এডে প্রথম সাঁওতালি ভাষাটা রাখা হয়। সেই সময় বিনয় ভবনের অধ্যক্ষা ছিলেন সবুজ কলি সেন। এব্যাপারে এগিয়ে আসে ‘রামকৃষ্ণ মিশন ইন্সটিটিউট অফ কালচার (গোলপার্ক, কলকাতা)। অধ্যাপিকা সবুজ কলি সেন সেখানে যোগাযোগ করে বইটি ছাপানোর ব্যবস্থা করেন।

সংগ্রহ

Spread the love

1 thought on “ভারতে প্রথম সাঁওতালি ভাষায় অনুবাদ শ্রী রামকৃষ্ণের ‘অমৃত কথা’ বিশ্বভারতী ছাত্রের”

  1. Pingback: "বই পড়লেই কফি ফ্রি'' বইমুখী করতে কফির আকর্ষন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *