মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু প্রথম সর্গ ‘অভিষেক’

মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম সর্গের নাম কবি দিয়েছেন ‘অভিষেক’। এ নাম নান্দনিক দৃষ্টিতে সার্থক হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হতে গেলে আগে দেখে নিতে হবে এ সর্গে কথাবস্তুর সর্বমােট সমায়ােজন কি-রকম।

কাব্যারম্ভে অমৃতভাষিণী দেবী সরস্বতীর আহ্বান ও বন্দনা প্রসঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে কাব্যের বর্ণির্তব্য ঘটনা শুরু হল রাবণ-নন্দন বীর বীরবাহুর মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই। ঘটনা পটভূমি লঙ্কার রাজসভা। ভূতলে অতুল’ এ রাজসভায় বসে রাজা রাবণ শােকে স্তব্ধ। অতুলনীয় ঐশ্বর্যের অধিপতি তিনি নিঃস্বতায় দীনাত্ম এখন। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ভগ্নদূত মকরাক্ষ তাকে এনে দিয়েছে প্রিয়পুত্র বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ। রাজা রাবণ এবং পিতা রাবণ-—উভয় সত্তাই অভিভূত এই দুঃসংবাদে।



প্রথমটায় তিনি বিশ্বাসই করতে পারেন নি, রাত্রের স্বপ্নের মতাে মনে হয়েছে এ দুঃসংবাদকে। যার বাহুবলে স্বর্গের দেবতারাও কাতর, তুচ্ছ নর রামচন্দ্র তাকে পরাজিত করল কিভাবে?—যুক্তিতে কোনাে উত্তর নেই, তাই শােকের গমকে রাবণ ভেঙে পড়েছেন: হা পুত্র, হা বীরবাহু, বীর চুড়ামণি!/ কি পাপে হারানু আমি তােমা হেন ধনে? দুঃখ কি শুধু পুত্রের জন্য! শূলীশম্ভর মতাে ভাই কুম্ভকর্ণ, লঙ্কার অপরাপর যত নিহত বীর এবং ফুলে-প্রদীপে সাজানাে নাট্যশালার মতাে সুন্দর লঙ্কার সকরুণ অবস্থাও তার শােকাবেগকে অনিরুদ্ধ করে তুলেছে।

পুরাে পরিস্থিতিই যেন তারই ধ্বংসের পূর্ব সংকেত। আক্ষেপে অভিযােগ করেছেন তিনি বােন সূপর্ণখার উদ্দেশ্যে। সে-ই তাে সমস্ত অনিষ্টের মূল। তার দুঃখে দুঃখিত হয়েই তাে তিনি অগ্নিরূপা সীতাকে নিয়ে এসেছিলেন লঙ্কায়, আর এখন সেই অগ্নিতেই হচ্ছে লঙ্কাণহন। আনন্দ-নির্বাসিত, দুঃখ-নিমগ্ন লঙ্কা থেকে বিদায় নিতে ইচ্ছে করছে লঙ্কেশ্বরের।

প্রধান সারণ তাঁকে প্রবোধ দিয়েছেন – ব্রজাঘাতে চূড়া ভেঙে পড়লেও পাহাড় অধীর হয় না। অতঃপর স্থৈর্য সঞ্চয় করে ভগ্নদূত মকরাক্ষের কাছে বীরবাহুর যুদ্ধ ও পরাজয়ের বর্ণনা শুনতে চেয়েছেন রাবণ।



বীরবাহুর বীরতা বিবৃত করা তার পক্ষে অসম্ভব জানিয়েই রাজাদেশে মকরাক্ষ বর্ণনা করেছে যে মত্ত হাতীর মতাে অসংখ্য বীর সহ শত্রু সৈন্য মাঝে বীরমদে প্রবেশ করেছিলেন বিবাহ, বাণে-বাণে আকাশ ছেয়ে দিয়েছিলেন, কত যে শত্রুসৈন্য নিধন করেছিলেন তা বলা অসম্ভব। কিন্তু এরপরই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিলেন রামচন্দ্র-রামচন্দ্রের আগমন বার্তা শুনিয়েই থেমে গিয়েছিল মকরাক্ষ-কাদতে শুরু করেছিল নীরবে। সভাস্থ সকলেই বুঝেছিল তার কান্নার কারণ। তবু রাবণ তাকে বীরবাহুর মৃত্যুর বর্ণনা করতে বলেন।

তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও মকরাক্ষ জানায়, সে-কথা বর্ণনা করা অথবা রাজার পক্ষে তা শােনা দুষ্কর। রামচন্দ্রের আগমনের পর ভয়ঙ্কর লড়াই হয়েছিল, কিন্তু পরিণামে সে ছাড়া আর কোনাে রাক্ষসই বাঁচেনি। অবশ্যই সে পালিয়ে আসে নি, তার প্রমাণ তার পিঠে অস্ত্রের কোনাে দাগ নাই, ক্ষত তার বক্ষ। দুর্ভাগ্যক্রমেই সে বেঁচে গিয়েছে। তবু তার জন্য তার আত্মগ্লানির সীমা নাই। |

বীরত্বব্যঞ্জক বর্ণনাকুশলতার জন্য রাবণ তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভাসদদের আহ্বান করেছেন যুদ্ধক্ষেত্র দেখতে যাওয়ার জন্য। প্রাসাদ-শীর্ষে আরোহণ করার পর ফুলবন, পুষ্করিণী, অসংখ্য স্বর্ণচূড়-অট্টালিকা, দেবগৃহ, নানা সামগ্রী সজি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তার। তিনি লক্ষ্য করেছেন লঙ্কা নগরীর চারপাশ ঘেরা উন্নত প্রাচীর। ফটক সমূহে প্রহরী এবং সৈন্যদের সর্তক তৎপরতা, লক্ষ্য করেছেন নগরের বাইরে সমুদ্রতীরবর্তী বালুরাশির মতাে অগণন শত্রুসৈন্য। লঙ্কার পূর্বৰ্ধারে পাহারা দিচ্ছে নীল, দক্ষিণ দুয়ারে অঙ্গদ, উত্তর দ্বারে রাজা সুগ্রীব এবং পশ্চিম দুয়ারে স্বয়ং রামচন্দ্র। তার কাছে | লক্ষ্মণ, হনুমান এবং সখা বিভীষণও উপস্থিত। ব্যাধেরা যেমন অসংখ্য লতাজালে সিংহীকে পাকে পাকে জড়ায়, তেমনি শত্রুরা জড়িয়ে রয়েছে লঙ্কাকে।



অসংখ্য বিপণি ভরা ঐশ্বর্যময়ী লঙ্কা অতঃপর রাবণ নিকটেই দেখতে পান যুদ্ধক্ষেত্র। শেয়াল, গৃধিনী. শকুন, কুকুর, ও পিশাচেরা সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে এখন। কেউ উড়ছে, কেউ বসছে, কেউ ঝগড়া করছে, কেউ রক্তপান করছে, কেউ ভুরিভােজন করে উল্লাস প্রকাশ করছে। স্তব্ধ যুদ্ধক্ষেত্রে পড়ে আছে অসংখ্য হাতী, ঘােড়া, অশ্বারােহী, গজারােহী, পদাতিকদের মৃতদেহ। পড়ে আছে অসংখ্য ভাঙা রথ, বর্ম, ঢাল, তরােয়াল, ধনুক, তীর, বর্শা, তৃণ, গদা, পরশু—পড়ে আছে মণিবসানাে কিরীট, পাগড়ি, বীরদের দেহের অন্যান্য আভরণ। তারই মাঝে শত্রুসৈন্য চেপে পড়ে আছে বীরবাহুর মৃতদেহ। তাকে দেখে শােকে আকুল হয়ে রাবণ বললেন—দেশের শনিধন করতে গিয়ে যে শয্যায় কুমার শায়িত, সে-শয়ন লাভ করা বীরকুলের চিরবাসনা। কিন্তু হৃদয় মােহবন্ধনে বাঁধা। এই ব-আঘাতে সে যে কত কাতর তা তিনি বলতে পারবেন। , জানেন শুধু অন্তর্যামী।

অতঃপর সেতুবদ্ধ সমুদ্রকে ব্যঙ্গ করেছেন রাবণ, আবার নিরুপায় ভাবে লঙ্কাকে উদ্ধার করতে জাঙাল-ভেঙে তাকে জেগে উঠতেও অনুরােধ করেছেন।

এরপর তিনি পাত্রমিত্রসহ ফিরে এসে বসেছেন সভায়। একটু পরেই সঙ্গিনীদের সঙ্গে সভায় এসে প্রবেশ করেছেন বীরবাহু-মাতা, শােকাকুলা চিত্রাঙ্গদা। পুত্রশােকে বিশ্রাবাস তিনি, আলুথালু তার কবরীবন্ধন। এই বেশ এমন অবস্থায় তাকে রাজসভায় আসতে দেখে সভায় যেন শােকের বাড়ি বয়ে গেছে। সে শােকোচ্ছ্বাস স্তিমিত হলে চিত্রাঙ্গদা রাবণকে জিজ্ঞাসা করেছেন—বিধি তাকে একটি রত্ন দিয়েছিল, রাজার কাছে তিনি রেখেছিলেন তাকে, রাজা তাকে কোনভাবে রেখেছেন? বলাবাহুল্য, এ-রত্ন তার পুত্র-রত্ন, বীরবাহু। রাবণ নিজের গ্রহদোষের কথা বলে, বীরগর্ভা লঙ্কার বীরশূন্য হওয়ার কথা বলে, শতপুত্রশােকে অহর্নিশ তার বুক ফেটে যাওয়ার কথা বলে তাকে কিছুটা নিরস্ত করলেও, যেই তাঁকে প্রবােধ দিতে গিয়ে বললেন, দেশের শত্রু নিধন করতে গিয়ে যে পুত্র স্বর্গে যায়, বীরমাতা হিসাবে তার মায়ের গর্ব করা উচিত, অমনি স্ফুলিঙ্গের মতাে জ্বলে উঠলেন চিত্রাঙ্গদা।

শাণিত যুক্তিতে ফালি ফালি করে ছিড়ে ফেললেন রাবণের ভ্রান্ত ধারণা, প্রমাণ করে দিলেন রামচন্দ্র দেশশত্রু নয়, লঙ্কা অধিকার করার জন্য সে লড়াই করছে না, করছে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করতে, যাকে অপহরণ করে এনে রাবণ নিজেই লঙ্কায় এ কালাগনি জ্বালিয়েছে। ‘হায়, নাথ, নিজ কর্মফলে মজালে রাক্ষসকুলে, মজিলা আপনি!’




চিত্রাঙ্গদা এইভাবে শাণিত যুক্তি-তর্কে রাবণের বিবেককে জাগিয়ে দিয়ে প্রস্থান করার পরই রাবণ নিজেই যুদ্ধ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছেনযাইব আপনি/ সাজ হে বীরেন্দ্ৰবৃন্দ, লঙ্কার ভূষণ! | দেখিব কি গুণ ধরে রঘুকুলমণি!

—রাবণের এই সংকল্প এবং সিদ্ধান্ত ঘােষণার সাথে সাথে সভায় দুন্দুভি বেজে উঠল। চারিদিকে রাক্ষসদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল যুদ্ধমত্ত দারুণ উদ্দীপনা। তাদের পদদাপে কাঁপতে লাগল লঙ্কা। – কেঁপে উঠল জলগর্ভও। সমুদ্রতলে স্বর্ণপদ্মবনে প্রবালের উপর বসে চুল বাঁধছিলেন জলদেবী বারুণী। তার সংশয় হল বায়ু বুঝি আন্দোলিত করছে জল। সখী মূরলা তাকে জানালেন সত্য সংবাদ। লঙ্কাযুদ্ধের কথায় বারুণীর প্রাণ কেঁদে উঠল লঙ্কায় আবদ্ধ সখী কমলার জন্য।

মূরলাকে তিনি পাঠালেন তার কাছে বার্তা সংগ্রহের জন্য। কমলার কাছে মূরলা পেলেন লঙ্কার ক্রমক্ষয়ী সংবাদ। তাকে বিদায় করে কমলা ইন্দ্রজিতের ধাত্রীমাতা প্রভাষার বেশে গেলেন প্রমােদ কাননে ইন্দ্রজিংকে ভ্রাতা বীরবাহুর মৃতুসংবাদ এবং বিপন্ন পিতার যুদ্ধযাত্রার উদ্যোগের সংবাদ দিতে। এ সংবাদ শােনা মাত্র ক্রোধে মেঘনাদ তার কণ্ঠের কুসুমমালা ছিড়ে ফেললেন, অঙ্গ থেকে খুলে ছুঁড়ে ফেললেন যত প্রমােদ- আভরণ এবং নিজেকে ধিক্কার দিয়ে তৎক্ষণাৎ লঙ্কা যাত্রার জন্য আদেশ দিলেন রথ আনতে।

অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত হয়ে রথে চাপতে যাবেন এমন সময়ে মেঘনাদের হাত চেপে ধরলেন তার স্ত্রী প্রমীলা; জানতে চাইলেন তাকে ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন প্রিয়তম। হেসে মেঘনাদ জানালেন তাঁর কল্যাণে রামচন্দ্রকে পরাহত করে তাড়াতাড়ি ফিরে আসবেন তিনি।



লঙ্কায় রাবণ যখন যুদ্ধযাত্রায় প্রস্তুত হচ্ছে এমন সময়ে এসে উপনীত হলেন মেঘনাদ। তাকে দেখামাত্র বীরেরা উল্লসিত হয়ে উঠল। মেঘনাদ পিতার কাছে চাইলেন রামচন্দ্রকে সমূলে বিনষ্ট করতে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি।

কিন্তু সহজে রাবণ সম্মতি দিতে পারলেন না। বিধিবিড়ম্বনায় তিনি আতঙ্কিত। জলে পাথর ভাসছে! মরেও মানুষ বেঁচে যাচ্ছে! মেঘনাদ বললেন, তিনি বেঁচে থাকতে যদি রাবণ যুদ্ধে যান তবে সারা জগতে তিনি কলঙ্কিত হবেন, তাঁর ইষ্টদেবতা অগ্নিও তার প্রতি হবেন। রুষ্ট। তখন রাবণ তাকে আগে ইষ্টদেবতার আরাধনা করে তার আর্শীবাদ নিতে বললেন। রাত্রি আরাধনা ও অগ্নিদেবতার আশীর্বাদ লাভ করে প্রভাতে ইন্দ্রজিৎ যাবেন যুদ্ধে—এই সিদ্ধান্তে স্থিত হয়ে রাবণ গঙ্গাজল নিয়ে বিধি অনুযায়ী ইন্দ্রজিংকে আগানী দিনের যুদ্ধে সৈনাপত্যে অভিষেক করলেন। সাথে সাথে বন্দীরা তার বন্দনা গাইতে লাগল। বেজে উঠল রাক্ষসদের বাদ্য, মেঘনাদের জয়ধ্বনিতে পূর্ণ হল সারা লঙ্কা।



মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য – কৃষ্ণগোপাল রায়

 

আরো পড়তে পারেন

Spread the love

18 thoughts on “মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু প্রথম সর্গ ‘অভিষেক’”

  1. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু তৃতীয় সর্গ 'সমাগম'

  2. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু চতুর্থ সর্গ 'অশোকবন'

  3. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু অষ্টম সর্গ 'প্রেতপুরী'

  4. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু নবম সর্গ 'সংস্ক্রিয়া'

  5. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের রাবণ চরিত্র

  6. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু নবম সর্গ ‘সংস্ক্রিয়া’ - Debota Hembram

  7. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু অষ্টম সর্গ ‘প্রেতপুরী’ - Debota Hembram

  8. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু ষষ্ঠ সর্গ ‘বধ’ - Debota Hembram

  9. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু সপ্তম সর্গ ‘শক্তিনির্ভেদ’ - Debota Hembram

  10. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু চতুর্থ সর্গ ‘অশোকবন’ - Debota Hembram

  11. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু নবম সর্গ ‘সংস্ক্রিয়া’ – Debota Hembram

  12. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু পঞ্চম সর্গ ‘উদ্যোগ’ – Debota Hembram

  13. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু চতুর্থ সর্গ ‘অশোকবন’ – Debota Hembram

  14. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু দ্বিতীয় সর্গ ‘অস্ত্রলাভ’ – Debota Hembram

  15. Pingback: মধুসূদনের প্রমীলা চরিত্রটি নবযুগের নব সাহিত্যের সূচনার পরিচয় » Debota Hembram

  16. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের মেঘনাদ চরিত্র » Debota Hembram

  17. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু সপ্তম সর্গ ‘শক্তিনির্ভেদ’ » Debota Hembram

  18. Pingback: মেঘনাদবধ কাব্যের বিষয়বস্তু তৃতীয় সর্গ ‘সমাগম’ » Debota Hembram

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *