Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors. Please consider supporting us by whitelisting our website.

জাগরী উপন্যাসের মা চরিত্র | নারী চরিত্র

জাগরী: নারী চরিত্র
—সুজাতা কোলে

জাগরী উপন্যাসের মা চরিত্র এখানে আলোচনা করা হয়েছে

জাগরী উপন্যাসের মা চরিত্র
জাগরী উপন্যাসের মা চরিত্র

“কিছুক্ষণের মধ্যেই তো চতুর্দিক অন্ধকারে ঢাকিয়া যাইবে। … তাই বোধহয় শেষ মুহূর্তের এই চঞ্চলতা,”

– এ ভাবনা বিলুর এবং একথাগুলি জগৎ সংসারের সকল সজীব বিষয়ের ক্ষেত্রেই বােধহয় প্রযােজ্য। অস্তায়মান সূর্য পশ্চিমে অদৃশ্য হবার আগে আকাশটিকে রাঙিয়ে দিয়ে যেতে চায় শেষবারের মত, পাখিরা রাত্রির স্তব্ধতায় নিঃঝুম হবার আগে কলরবে মুখর হয়। মৃত্যুপথযাত্রী কিন্তু ফাসির আগের দিন রাতে অতীত কথায়, একান্ত ভাবনায় আবিষ্ট হয়। বিদায়ের প্রাক্ মুহূর্তে জীবনের সমস্ত মধুরতাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করে, পৃথিবীর সব রস আস্বাদনের আকুতি জাগে তার। মনে আসে মা, জ্যাঠাইমা, সরস্বতী, নীলু, বাবা এবং আরও অনেকের কথা। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে বেরিয়ে আসে। অনেক না বলা কথা, অনুনভূত, অনুভূতি, আবার অতি পরিচিত জীবনাচরণ। আমরা জানি ‘জাগরী’ উপন্যাসের গঠনরীতি অন্যান্য উপন্যাস থেকে আলাদা। আনুপূর্বিক আখ্যায়িকা হিসাবে ‘জাগরী’ রচিত হয়নি। এক প্রলয়ঙ্কর মুহূর্তের প্রতীক্ষায় চারটি মানব মনে একই সময়ে কী কী ভাব, চিন্তা, স্মৃতিপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল, সেটাই এই উপন্যাসের বিষয়। (১) প্রত্যেকর মনের ভাবনা, চিন্তা, স্মৃতি মধ্য থেকেই একটা কাহিনী উঠে আসে এবং সেইসঙ্গে চরিত্রও। এক একটি চরিত্রের চিন্তনের সূত্রে অন্য চরিত্রগুলি রূপ পায়। উপন্যাসে চারটি প্রধান চরিত্র বিলু, বাবা, মা এবং নীলু। বিলুর ভাবনার সূত্রে ধরা পড়ে মা, জ্যাঠাইমা, সরস্বতী, নীলু, বাবা ইত্যাদির চরিত্র। আবার বাবার ভাবনার সূত্রে ধরা পড়ে বিলুর মা, বিলু, নীলু, জিতেনের মা, সরস্বতী– এদের চরিত্র। তেমনিভাবে মা-এর ভাবনায় স্পষ্ট হয় বিলু, নীলু, বিলুর বাবা, দিদি (জিতেনের মা) ইত্যাদির চরিত্র এবং নীলুর ভাবনায় ধরা পড়ে মা, জ্যাঠাইমা, দাদা (বিলু), বাবা, সরস্বতী ইত্যাদি চরিত্র। কাজেই যে কোন চরিত্র আলােচনা করতে গেলেই প্রত্যেকের ভাবনার সূত্র ধরেই করতে হবে। আমাদের আলােচ্য নারী চরিত্রগুলি। সেই আলােচনায় প্রাধান্য পায় মা, জ্যাঠাইমা, সরস্বতী চরিত্র। এছাড়াও প্রসঙ্গক্রমে আসে আরও কয়েকটি নারী চরিত্র। যারা সম্পূর্ণ মূর্তি পরিগ্রহ করেনি, কিন্তু তাদের চরিত্রের এক-একটি দিক উপন্যাসে স্পষ্ট হয়। যেমন বাদর বাহর গামিয়ার মা, হরদার দুবেজীর স্ত্রী দুবেহনি প্রমুখ।

জাগরী উপন্যাসের মা চরিত্র

জাগরী উপন্যাসের একটি অসাধারণ নারী চরিত্র ‘মা’। সমালােচকের কথা দিয়েই আলােচনা শুরু করা যাক- “… ‘জাগরী” উপন্যাসে সবচেয়ে জীবন্ত চরিত্র মা। একাধারে তিনি মাস্টার সাহেবের সহধর্মিনী, অন্যদিকে নীলু-বিলুর মা, বার জেলসুদ্ধ কংগ্রেস কর্মীর হৃদয়ে তার মায়ের আসন। বিভিন্ন মতাদর্শের ভিন্নতার মাঝখানে ত্রিশঙ্কু অবস্থা তার।” -(সতীনাথ ভাদুড়ী : জটিল অন্তর্লোকের আশ্চর্য , ডঃ দেবদ্যুতি বন্দ্যোপাধ্যায়)। সমালােচকের এই মন্তব্যের ভিত্তিতে মা চরিত্রের তিনটি দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি (১) মাস্টার সাহেবের স্ত্রী, (২) নীলু-বিলুর মা (৩) সকল কল কর্মীর মা। এক রাষ্ট্রীয় পরিবারের কত্রী তিনি। কিন্তু নিজে কোনাে মতের দ্বারা চালিত নন। স্বামীর ধর্মের অনুগামিনী হয়ে তিনি কংগ্রেসে এসেছেন, সকল কংগ্রেস কর্মীর মা হয়েছে কিন্তু তার মন যে অন্য কাউকে চায়নি। তিনি বলেছেন, “আমি রাজ্যসুদ্ধ লােকের মা জেলার সব কংগ্রেস কর্মীর মা, আমার তাে বিশ্বজোড়া ছেলে। কিন্তু মন যে নীলু-বিলুর উপর পড়ে থাকে। এদের ছাড়া অন্য কোনাে ছেলের মা হতে আমি চাইনি।” তার মাতৃমন কেবল নীলু-বিলুকে কেন্দ্র করেই সাড়া দেয়। এখানে মাতৃ চরিত্রের চিরন্তন স্বার্থপরতাই প্রকাশ পায়। তিনি তার সন্তানদের একেবারে আঁকড়ে রাখতে চান বুকে– “আমি চাই বিলু নীলকে একেবারে আমার নিজের করে রাখতে, যাতে ওদের উপর আর কারও দাবি দাওয়া না থাকে।” এই কারণেই জিতেনের মা জ্যাঠাইমাকে বিলু মা বলে শুনে তিনি রাগ করেন, অভিমানে তার বুক ভরে ওঠে।

আরো পড়তে পারেন: জাগরী উপন্যাসের বিলু চরিত্র

মাস্টার সাহেবের স্ত্রী হিসাবে তিনি হয়েছেন স্বামীর ধর্মের অনুগামিনী। শিক্ষকতার কাজ ছেড়ে মাস্টার সাহেব আশ্রম খুললে তিনি কোনও প্রতিবাদ করেননি, সব মেনে নিয়েছেন, স্বামীর জন্য ভায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেছেন। আরতির সময় বিলু নীলু না এলে তাদের বাবা রাগ করবেন ভেবে ভীত হয়েছেন। নীলুর বাবাকে নিয়ে কৌতুককর কোনাে কথা যাতে স্বামীর কানে না ওঠে সে বিষয়ে যত্নবান হয়েছেন, স্বামীর পিতার সেবা করেছেন শত লাঞ্জনা সহ্য করেও, আবার স্বামীর আদেশে রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে “স্বয়ং সেবিকা প্রতিজ্ঞাপত্রে’ দস্তখত করাতে গিয়ে অপমানিত হয়েছেন।

বিলু-নীলুর মা (জাগরী উপন্যাসের মা চরিত্র) হিসাবে বিলুর ফাসির আগের রাতে তার মন তাদের শৈশবস্মৃতিতেই হয়েছে ভারাক্রান্ত। তিনি অনুভব করেছেন “বিলু নীলুর কেবল ছােটোবেলার কথাই মনে পড়ে কেন? বােধহয় ওরা আমার কাছে সেই ছােট্টটি থেকে গিয়েছে। মার কাছে সন্তান চিরকালই ছেলেমানুষ। মা-র মনে পড়ে বিলুর জন্মাবার কথা, ডবল নিউমােনিয়ায় শরীর ভেঙে যাবার কথা, বিলু-নীলুর মায়ের কোল নিয়ে ঝগড়ার কথা, বিলুর নীলুকে সর্বদা চোখে চোখে রাখবার কথা, বিলু-নীলুর ছেলেবেলা থেকে ভগবানে বিশ্বাসের কথা ইত্যাদি। তিনি বলেন “কত স্মৃতি, ছােটখাটো কত ঘটনা, কত আদর-আবদার হাসি-কান্নার ছবি চোখের সামনে চব্বিশ ঘণ্টা ভেসে বেড়াচ্ছে, তার কি হিসাব আছে? ইচ্ছে করে যে এইসব মনে পড়াগুলােকে আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকি, পারি তাে বুকের মধ্যে লুকিয়ে রেখে দি।” কাছে-না থাকা সন্তানদের স্মৃতিকেই তিনি আঁকড়ে থাকতে চেয়েছেন।

বিলুর ভাবনার সূত্রে মা’র মুখটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। “সম্মুখের চুল সাদাতে কালােতে মিশানাে– কালােই বেশি, সিঁথির চুল কতকগুলি উঠিয়া সিঁথিটি চওড়া হইয়া গিয়াছে ; তাহার উপর চওড়া করিয়া সিঁদুর। তাহার পিছনে দেখা যাইতেছে খদ্দরের শাড়ির লাল পাড়। কান, গলা সম্পূর্ণ নিরাভরণ। অর্ধনিমিলিত চোখের কোনে কতকগুলি বলিরেখা, একটি কারিয়া মােটা, বাকিগুলি চুলের মতাে সরু। নাকের নিচের দিক হইতে দুইটি চর্মরেখা, ঠোঁটের দুই কোণ পর্যন্ত পৌছিয়াছে। ধবধবে রং-এর উপর রেখা দুইটি বেশ গভীর দেখাইতেছে। নিচের দন্তপংক্তির মধ্যে একটি দাঁত নাই।” বিলুর ভাবনাসূত্রে মায়ের আরাে কয়েকটি স্বভাব বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যায়। মার খাবার শেষে একটু দুধ না হলে যেন খাওয়াই হয় না। “এটিই বােধহয় মা’র একমাত্র বিলাসিতা। মার অসুখ করলে অসুখ একটু বেশি হয়েছে। বললেই তিনি খুশি হন। মায়ের ভুলগুলি পর্যন্ত তার সন্তানদের মুখস্থ। তিনি বলেন, ‘অঙ্গার শতধৌতেন মলিনশ্চ’ ন মুঞ্চতে।” তিনি বলেন ‘দয়া দাক্ষিণাত্য”, ঘােমানাে অর্থে ‘ঘুমতে’ শব্দ ব্যবহার করেন। এই নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে তার হাসি-ঠাট্টা হয়। সন্তানদের সঙ্গে মায়েরই নিকট সম্পর্ক। বাবা বলেছেন-

‘নীলু বিলুর আদর আবদার যা কিছু সব মায়ের সঙ্গে। একসঙ্গে খাওয়া বসা, মনের কথাটি বলা, ছােটোবেলার মতাে এখনও সব সেই রকমের বজায় আছে।”

সতীনাথ ভাদুড়ীর জীবনী থেকে জানা যায়, ১৯২৮-এর ৪ঠা এপ্রিল তার মা রাজবালা দেবীর মৃত্যু হয়। লেখক তখন পাটনা আইন কলেজের ছাত্র। মা-র মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সতীনাথের সংসারের বন্ধন ক্রমশঃ শিথিল হয়ে যায়। তার বাবা ছিলেন রাশভারী মানুষ। বরাবরই সতীনাথ তাঁর কাছ থেকে দূরত্ব রক্ষা করে চলতেন। মায়ের অভাববােধ তাকে নিঃসঙ্গ করেছিল। আমাদের বক্তব্য এই মাতৃচরিত্রের প্রভাব কি উপন্যাসের ‘মা’ (জাগরী উপন্যাসের মা চরিত্র)-এর উপর পড়েছিল, বিশেষ করে মাতা-সন্তানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে, উপন্যাস পাঠে সে ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়াই পাওয়া যায়।

মা (জাগরী উপন্যাসের মা চরিত্র) হিসাবে সন্তানদের শিশব ভার নেন তিনি। তার অনুরােধেই বিলুকে ম্যাট্রিকুলেশন পর্যন্ত ইংরেজি হাইস্কুলে পড়ানাে হয়। নীলুকে কলেজে পাঠানাে হয়। একবার দৌড়ে নীলু মিথ্যেভাবে ফার্স্ট প্রাইজ পেলে সেই প্রাইজ তার মা কীঙ্কারী দত্ত ওরফে খােকন দা-কে দিয়ে আসতে বাধ্য করেন। দুর্গাদির ছােটো বােন টেপির মাথায় রবারের রস জমানাের জন্য বিলু নীলু তাদের মায়ের কাছে যথেষ্ট প্রহার খায়। কোল নিয়ে বিলু নীলুর ঝগড়া চললে মা বিলুকেই বড় বলে শাসন করেন। পরে অভিমানী ছেলেকে বুঝিয়ে শান্ত করেন। এই মা-ই আবার জেলে থাকার সময় সন্তানদের চিঠি লিখে পাঠান–

‘সকালে খালি পেটে চা খেয়াে না। মধ্যে মধ্যে ত্রিফলা আর ইসবগুল খাবে। বেলপােড়ার বন্দোবস্ত করতে পারলে সব চাইতে ভাল। আমার বড় ভয়– জেলে তােমাদের প্রত্যেকবারই আমাশা হয়। সিকিউরিটি বন্দীদের তাে এসব জিনিস জোগাড় করা শক্ত নয়। যদি টাকার দরকার হয় লিখতে লজ্জা করাে না। যেমন করে তােক পাঠিয়ে দেব।’

আবার জলবসন্ত নিয়ে ছেলেরা সেবার আশ্রমে পৌছয় তিনি মনের উৎকণ্ঠা ও গভীর বেদনা চাপার চেষ্টা করে শুধু বলেন। ‘তােরা আমায় পাগল করবি?’

বিলু ভাবতে চেষ্টা করে মা আজ রাতে ঘুমাতে পারবেন না বােধহয় তিনি জপে বসবেন। মন খারাপ হলে তিনি জপে বসেন। নীলুর যেদিন অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন করা হয় আজমীর হাসপাতালে, সেদিন তিনি সারারাত পূজার ঘরে বসেছিলেন। সারারাত্রি তার জপেই কাটে। তাই আজ রাতেও তিনি জপে বসবেন এ ব্যাপারে বিলু মনে মনে যেন নিশ্চিত হয়। বিলুর বাবাও ভাবেন “ভাবনা বিলুর মাকে লইয়াই, সে তাে নিশ্চয়ই নাওয়া-খাওয়া ছাড়িয়া দিয়াছে,’ বিলুর মাকে পর্যন্ত সান্ত্বনা দিবার লােক কেহ নাই।’

সন্তান-বিচ্ছেদের বেদনা মা (জাগরী উপন্যাসের মা চরিত্র)-কে করে তুলেছে আজ প্রতিবাদী। যিনি একদিন স্বামীর সব আদেশ, ইচ্ছা মাথা নত করে অনুসরণ করেছিলেন, আজ তিনি সেই স্বামীর দিকে তুলেছেন অভিযােগের আঙুল, মহাত্মাজিকে দাঁড় করিয়েছেন প্রশ্নের দোরগােড়ায়। বিলুর বাবা যখন চাকরী ছেড়ে কংগ্রেসে যােগদান করেন তখন তিনি একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন বিলুর মাকে। তাও ঠিক জিজ্ঞাসা নয়, নিজের সংকল্প স্থির করিবার পর, একরকম জানানাে। বিলুর মা বলেছিলেন, ‘তুমি যা ভাল বােঝ তাই করাে, মেয়ে মানুষের আবার মতামত।’ কিন্তু আজ রাতে মা ভাবেন, “অনেক মুখ বুজে সহ্য করেছি আর নয়। তিনি ছােটছেলেকে আর রাজনীতির মধ্যে থাকতে দেবেন না, ছােট ভাই-এর কাছে পাঠিয়ে দেবেন। তিনি বলেন, আমাকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছিলে ; আমি তােমার আশ্রমের হােটেলে দাসী বাঁদীরও অধম হয়ে চলে যাব চিরকাল- তাই বলে আমার ছেলেকে আর আমি এর মধ্যে রাখি!” তার মনে পড়েছে তেলী-বৌ-এর কাছে অপমানিত হওয়ার কথা, বিলুর বাবার নিজের কাছে চাবি রাখার কথা। অভিমানী কণ্ঠে মা বলেছেন, ‘তুমি (বিলুর বাবা) দেশের স্বাধীনতার জন্য সব ছেড়েছ সত্যি, কিন্তু আমাকে তাে একটুও স্বাধীনতা দাওনি।’ তিনি স্পষ্টভাবে বিলুর বাবার কাছে মনে মনে অভিযােগ জানিয়েছেন- ‘তােমার জন্যে আমার ছেলের এই হলাে। আমার সংসার ছারখার হয়ে গেল।’

আবার গান্ধীজীকে উদ্দিষ্ট করে মা (জাগরী উপন্যাসের মা চরিত্র) বলেছেন, “তুমি আমার এ কী করলে? তুমি আমাদের একেবারে পথের ভিখিরি করে ছেড়েছ ; সত্যিকারের ভিখিরি। তুমি মাসের শেষে হাতে তুলে কিছু দেবে, তবে আমরা চারটি খেতে পাব। নিজের ঠাকুর দেবতা ছেড়ে তােমার পুজো করেছি ; তােমার জন্যে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব সব ছেড়েছি ; হাসতে ভুলেছি ; তার প্রতিদান তুমি খুব দিলে। তােমার দেখাননা রাস্তায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনের মিল হয় না, বাপ ছেলেতে ভালবাসার সম্পর্ক থাকে না, ভাই ভাইয়ের শত্রু হয়ে দাঁড়ায়, গৃহবিচ্ছেদে সংসার ছারখার হয়ে যায়।” তিনি ইষ্টমন্ত্র ছেড়ে গান্ধীজীর নাম জপ করেছেন, মেথরকে হরিজন বলে তার ল্যাংটা ছেলেকে নিয়ে নীলু-বিলুর সঙ্গে রান্নাঘরের বারান্দায় বসিয়ে খাইয়েছেন। তার প্রতিফল কি এই হল! একসময় তিনি অস্থির হন কেন দুর্গার মা, ঘেঁদির মা, জিতেনের মার কথা শােনেননি। শুনলে হয়তাে তার সন্তানের এই দুর্গতি হত না।

আবার ভাবেন বিলুর অসুখের সময় তিনি যে মানত করেছিলেন, সেই পুজো পুণ্যেশ্বরীর ওখানে দিয়েছেন তাে? কিংবা বরহমথানে বিলু হবার সময় যে ইটটা বেঁধেছিলেন, সেটা খােলা হয়েছিল তাে। হয়তাে ‘ডিহওয়ার দেবতা সরস্বতীর সঙ্গে বিলুর বিয়ে না দেবার জন্য রাগ করে তার এই সর্বনাশ ঘটিয়েছেন। আসন্ন সন্তানবিচ্ছেদ বেদনায় ব্যাকুল মার অস্থিরতার ছবিই ভাবনাগুলির মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে। কখনও বিলুর পিতার কাছে, গান্ধীজির কাছে। অভিযােগ, কখনও দেবতাদের রােষ দূর করার চেষ্টা—যে কোনও উপায়ে তিনি যেন সন্তানকে ধরে রাখতে চেয়েছেন। ডঃ দেবদ্যুতি বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন, “এক স্ত্রীর নিঃসঙ্গতা, এক জননীর একাকীত্ব ও অবলম্বনহীনতা আর বিচ্ছেদের হাহাকার ফুটে উঠেছে মায়ের চরিত্রে।” সত্যিই এক আশ্চর্য জীবন্ত চরিত্র মা (জাগরী উপন্যাসের মা চরিত্র)। কোন আদর্শ কল্পনা নয়, তার জন্য সর্বস্ব ত্যাগের মহৎ ব্রত নয়। একান্ত পাতিব্ৰত্য, সন্তান বাৎসল্য — এগুলি নিয়েই তিনি জীবন্ত হয়ে আছেন উপন্যাসে।

এছাড়াও সাহিত্য বিষয়ক পোস্ট পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Spread the love

8 thoughts on “জাগরী উপন্যাসের মা চরিত্র | নারী চরিত্র”

  1. To Precisely the Same pattern considering that Long lost Digital slr camera
    Patron, Jerkmate is a really Indigne Us citizen It doesn’t
    matter if some of those non-adult cameras just generally
    there for brand, it is actually remarkably obvious in which Jerkmate’s major target would
    be situated to grasp more about girl or boy cameras onto
    the court. But in 1957 the Supreme Court ruled that Congress
    could only ban things “utterly without redeeming social importance.” Now men all over
    the states could finally read Playboy for the articles in the privacy of their own bathrooms.
    He warned parents to be vigilant with the social their children are using.
    Both are offering deals that can cut the price further or providing opportunities for extended
    free periods lasting up to a year. In July 2020, an article from the New York Times
    published an article about Netflix DVD, No Manches Frida 2s.
    It was stated that Netflix was continuing their DVD No. No Frida 2s with 5.3 million customers,
    which was a significant decrease from the previous year. A year prior to Google’s coerced exit in 2010, the Chinese government accused Google of spreading porn and demanded
    it to censor its search results.

  2. Give it a attempt right now! Also, ‘monstrosities’ won’t
    pay to search out their ‘victims’.Do not give out your phone
    quantity: astounding websites to young ladies for intercourse this night as a rule license you to go away and tune in to dating young ladies and young men voice messages, and visit on the net.

    There are hundreds of stay cam websites that allow you to speak with girls,
    guys and even couples. There aren’t any ensures. Employees from
    Genzyme Corporation are among the many volunteers who determine, dimension, and
    intercourse crabs for David Delaney’s invasive crab
    research (bottom). Britain’s youngest particular person to have transitioned, at the age of 15, Ria Cooper, now 25, was just lately
    denied a task in a pornographic film as a result of she is
    trans. After sending out her new glamour photographs and portfolio to her fan base on social
    media, Cooper was contacted by a photographer
    who wanted to take saucy images, engage in sex along with her, and film that for distribution. And, in case you are over
    18, fairly good looking with a moderately trim physique, are sexually uninhibited and have a sparkly persona you too could be a part of them.

  3. Wrapped in the increasingly wet pussy cam cam girls under her feelings.
    Love women .. Lips, tits, pussy & ass. I would
    love to find videos of trannys fucking their own tits, and self sucking.

    55. Interracial Home Videos! Free porn videos , naked galery images, porn shows and more fantasies with amateurs and live
    fucking on webcam . Does anybody know where that one video went of the
    two teen girls on webcam where one was super hot and had big tits
    but the other one was a complete troll? Looking for a video I saw on here about a year
    ago, a guy left his webcam on while he fucked a girl
    with big tits that he said he got from some dating site, on the floor and
    they get caught at the end by someone off screen and coverup real quick.

    Due to the fact that our video chat is completely anonymous, nobody
    will know more about you, so you can feel absolutely relaxed
    and secure and enjoy our live naked girls. The camsite software can be downloaded for free of charge.
    Was spread, I’ll free latina cam him lie back here!

  4. There’s speculation that this is because there
    are significantly more men than women on the site,
    and AdultFriendFinder would likely be worried about scaring off newcomers with the whole
    male-heavy vibe. When the service launches tomorrow it will only support
    the Xbox 360 and a few casual games hosted on the GameCrush website, but
    there are plans to add PlayStation 3, Wii, and World of Warcraft support as soon as
    possible. Adult entertainment may sell itself as a fantasy, but the next frontier is about bringing it into the real world.
    Not real. (If you want to start with a free site, try Oglaf.

    With a simple motive “everyday is the best day to do shopping at discount price” and keeping this concept in mind,
    it offered free online coupon codes and promo codes through a large network
    of different e-commerce web portals. The Oscar nominee answered questions about the dark cloud that hangs over the critically acclaimed film –
    disgraced director, Bryan Singer – during an interview with Jen Yamato
    at The Los Angeles Times later that day.

  5. Attractive section of content. I just stumbled upon your blog and in accession capital to say that I acquire actually loved
    account your blog posts. Anyway I’ll be subscribing on your feeds or even I success you get
    right of entry to persistently fast.

  6. Pingback: জাগরী উপন্যাসের বিলু চরিত্র » Debota Hembram

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *